← Back to blog

Writing · Bangla

ছেঁড়া পাতার গদ্য - ০৫

রোড ৪এ, ধানমণ্ডি

বিকেল ৩:৩৮


একটু আগেও রোদটা গায়ে লাগছিলো। শীত এসে গেছে, তাই রোদের তেজ তেমন নেই। পাশাপাশি হাঁটছিলাম দুজন। অনেকদিন পর দেখা হয়েছে ওর সাথে। অনেক কথাই জমে ছিল। অনেক কথা বলেছিও, কিন্তু মনে হচ্ছে সব বলা হয় নি।

দেখা হবার পর কেনো যেনো সঙ্কোচ লাগছিলো, চোখাচোখি হতে চোখ সরিয়ে নিচ্ছিলাম (উল্টোটা ঘটাই স্বাভাবিক ছিলো… 😑) দেখে নিজের উপরই বিরক্ত হচ্ছিলাম। কিন্তু ওকে দেখে মনে হল, এই ব্যাপারটায় মজা পেয়েছে। চোখাচোখি হতেই ফিক করে হেসে ফেলল। বলল “এখন খাবে? ”

আমি বললাম, “খাওয়া যায়”।

ও রাস্তা পার হয়ে একটা দোকানে ঢুকল। আমি দোকানে ঢুকতে বলল, “কোনটা খাবে?”

“তোমার যেটা ইচ্ছে”, আমি বললাম।

“না, না, তুমি যেটা বলবে সেটাই”।

“ঠিক আছে” , দোকানদারকে বললাম, “দুটো চকবার, ইগলু”।

দুজনে হাতে একটা করে চকবার নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে হাঁটছি, যেন স্কুলের বাচ্চাদের মতো ছুটি শেষে আইস্ক্রিম খেতে খেতে বাসায় যাচ্ছি।

“তোমার এখান থেকে যেতে দেরি হবে না?”, ও জিজ্ঞেস করল।

“নাহ, সাইন্স ল্যাব থেকে এক গাড়িতেই যাওয়া যায়, বেশি সময় লাগে না।”

“আজকে তোমার টিউশনি মিস হয়ে গেল মনে হয়”

“মিস হয়নি, সন্ধ্যার পর পড়াব আজ”, আমি বললাম।

আগেই ঠিক করেছিলাম, বিদায় নেবার আগে দুজনে আইসক্রিম শেয়ার করে খাব।

প্রায় অর্ধেক খাওয়া হয়েছে দুজনেরই। আমি বললাম, “এবার?”

“ঠিক আছে”, বলে ওর চকবারটা আমার হাতে আমারটা নিয়ে নিলো। পরক্ষনেই আমার হাতের দিকে তাকিয়ে বলল, “এহহে ”

“কি হলো?”

“আইসক্রিমে লিপস্টিক লেগে গেছে, তুমি খাবে বলে এতো সাবধানে খেলাম, তবু লেগে গেলো।”

“ভালোই হয়েছে”, আমি দাঁত কেলিয়ে বললাম, “এখন এটার স্বাদ আরও বেড়ে গেছে!”

আমার বাহুতে হালকা একটা ঘুষি মেরে বলল, “তাই না?”…

[প্রথম প্রকাশঃ নভেম্বর ২০১৫]